Dr. Haradon Debnath

সবাই জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমরব্যথায় ভোগেন। এই ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো পেশি ও হাড় সংশ্লিষ্ট ব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া, অস্ট্রিওআর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোডিসকাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস, এনকাইলজিং স্পন্ডাইলাইটিস ইত্যাদি।

অনেকেই বলেন, পিএলআইডির কারণে কোমর বা মেরুদণ্ডে ব্যথা হচ্ছে। এই পিএলআইডি আসলে কী? এর মানে হলো প্রলাপসড লাম্বার ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক। এই রোগ হলে দুটি কশেরুকার মধ্যে থাকা কোমরের নরম অংশ (ডিস্ক) বের হয়ে বাইরের দিকে চলে আসে। ডিস্কের বাইরের দিকে অ্যানুলাস ফাইব্রোসাস নামে শক্ত আবরণ থাকে, যা আঘাতে বা ক্ষয় হয়ে ছিঁড়ে গিয়ে ভেতরের নরম জেলির মতো অংশ বের হয়। সেই বের হওয়া অংশ নার্ভের রুটকে চাপ দেয়। ফলে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং সেই ব্যথা ক্রমশ পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। একে সায়াটিক পেইনও বলে। সাধারণত লাম্বার ৪ ও ৫ নম্বর কশেরুকায় এটি ঘটে থাকে।

যেভাবে বুঝবেনঃ
ব্যথা সাধারণত কোমর, ঊরু, কাফ মাসলের পেছন দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল বা ছোট আঙুল পর্যন্ত চলে আসে। কাশি-হাঁচি দিলেই প্রস্রাব-পায়খানা বের হয়ে আসে।

সামনের দিকে ঝুঁকে নামাজ পড়লে বা কোনো জিনিস তুলতে গেলে ব্যথা বাড়ে। ডিস্ক প্রলাপস গুরুতর হলে প্রস্রাব, পায়খানা, সেক্সের নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায় বা প্যারালাইসিস হয়। এই অবস্থাকে বলে কৌডা ইকুইন সিনড্রোম। এটা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অস্ত্রোপচার করতে হয়, নইলে রোগের উন্নতি হয় না।

কী করবেনঃ
কোমরব্যথার যথাযথ চিকিৎসা রয়েছে। কিছু উপায় অবলম্বন করলে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যথা কমে যেতে পারে। এ জন্য কিছুদিন পরিপূর্ণ বিশ্রাম করা, কিছু ব্যায়াম, শক্ত বিছানায় ঘুমানো, নিচু হয়ে ভারী কিছু না তোলা ও ভারী কাজ না করা, পাতলা বালিশে ঘুমানো, বিছানা থেকে ওঠার সময় কাত হয়ে ওঠা, অতিরিক্ত ভ্রমণ পরিহার, মোটরসাইকেল না চালানোর মতো কিছু বিষয় অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি ওজন কমাতে হবে।

এ ছাড়া পিএলআইডি-সংক্রান্ত কোমরব্যথায় ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে এখন মাইক্রোসার্জারি করানো যায়। আমাদের দেশেই এর উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নিউরোসায়েন্স হাসপাতালসহ অনেক হাসপাতালে উন্নত মানের মাইক্রোসার্জারি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *